চট্টগ্রামে আসা চীনা জাহাজের উপর কড়া নজরদারি

এসএমটুয়েন্টিফোর ডটটিভিঃচীনের চারটি বন্দর ঘুরে একটি কার্গো জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে। কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজরদারিতে জাহাজটি বন্দরের বহির্নোঙ্গরে আসা মাত্রই বন্দর থেকে মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে প্রত্যেক নাবিককে। তবে আশার কথা হল ২৪ নাবিকের মধ্যে কারোরই করোনা ভাইরাসের লক্ষণ পাওয়া যায়নি।বন্দর সূত্র জানায়, চীনের চারটি বন্দর ঘুরে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসায় করোনা ভাইরাস সতর্কতার কারণে এটিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বন্দরের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর কৌতূহল ছিল ‘আসলেই কী হচ্ছে বহির্নোঙ্গরে?’ যদিও ওই জাহাজটি বাংলাদেশের জলমীসায় প্রবেশের সময় ক্যাপ্টেন কর্তৃক ঘোষণা এসেছিল জাহাজের সবাই করোনা ভাইরাসমুক্ত। এরপরও চীন থেকে আসায় জাহাজটির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, চীনের তিয়াং জিং, কিংডাও, লিয়ানইউগান ও ডালিয়া সমুদ্র বন্দর খেকে মালামাল নিয়ে সর্বশেষ সিংগাপুর সমুদ্রবন্দর হয়ে লিবিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ সেভশী নেহা-২ বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে আসে। সাধারণ কার্গো জাহাজটি স্ক্র্যাপ ও স্টিল পণ্য নিয়ে নোঙ্গর করে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে। জাহাজটিতে ২৪জন ক্রু রয়েছে। এরমধ্যে ভারতের ২২জন, নেপালের ১জন এবং রাশিয়ার ১জন ক্রু রয়েছেন। মেডিকেল টিম বলছে, ক্রুরা সকলেই সুস্থ রয়েছেন।চট্টগ্রাম বন্দরের উপ-সংরক্ষক ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলম চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘চীন থেকে জাহাজটি আসায় আমরা বিশেষ গুরুত্বের সাথে সব ক্রুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য মেডিকেল টিম পাঠিয়েছি। কোন ধরনের সমস্যা বা সমস্যার সংকেতও পাওয়া যায়নি। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় আমরা একটি মেডিকেল ভ্যাসেল অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রেখেছি। বহির্নোঙ্গরে বা জাহাজে কাউকে অসুস্থ পেলে বন্দর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।বন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মোতাহার হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের ডাক্তার নুরুল আবছার এবং টেকনো অফিসার আশিষ সরকারকে পাঠানো হয়েছে বহির্নোঙ্গরে। চীন থেকে আসা জাহাজের সবাইকে পরীক্ষা করা হয়েছে। জাহাজের প্রায় সবাই ভারতীয়। তাদের কোন সমস্যা পাওয়া যায়নি। আমাদের টিম সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চীনা জাহাজের ক্রুদের পরীক্ষায় ব্যস্ত ছিল।এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘করোনাভাইরাস নিয়ে আমরা আগে থেকে সতর্ক আছি। পূর্ব সতর্কতার অংশ হিসেবে চীন থেকে আসা জাহাজে মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মতে, বন্দরের বহির্নোঙ্গরে জাহাজ আসার আগেই ঘোষণা দিতে হবে করোনা ভাইরাসমুক্ত কী না। বন্দরের রেডিও কন্ট্রোল বিষয়টি নিশ্চিত করে ফ্রেশ অ্যারাইভাল বুকে লিপিবদ্ধ করে রাখবে। ৩০ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নৌ-বিভাগের সহকারী হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন জহিরুল ইসলাম কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক নোটিশে স্থানীয় শিপিং এজেন্টদের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়।
সূত্র মতে, প্রতিদিন গড়ে ১০টি জাহাজ আসছে চট্টগ্রাম বন্দরে। এরমধ্যে নিয়মিত চীন থেকে আসা জাহাজ থাকছে দুই থেকে তিনটি। প্রতি জাহাজে ৩৫-৪০জন ক্যাপ্টেন-প্রকৌশলী থাকেন। তাদের অনেকেই জাহাজ থেকে নেমে চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ করছেন। কিন্তু থার্মাল স্ক্যানার বা এ ধরনের মেডিকেল চেকআপ ছাড়াই তারা বন্দর থেকে নগরে প্রবেশ করেন। চট্টগ্রাম কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মতে এখন থেকে বহির্নোঙ্গরেই চেকআপ করা হচ্ছে করোনা ভাইরাসের সন্দেহ থাকা সব জাহাজের ক্রুদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *